
টেকনাফ প্রতিনিধি :
টেকনাফে ৫৬ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত কাটাখালী হাফেজিয়া দারুল কোরআন ফুরকানিয়া মাদ্রাসা ও খানাকাহের জায়গা-জমি, মার্কেট ও সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থ ও অন্যান্য সম্পদসহ এক কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি লুটপাটের অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠাতা মরহুম শাহ সুফি আব্দুল কাদের ফকির (রহ.)-এর একমাত্র ছেলে আলহাজ্ব হাফেজ জালাল আহম্মদ। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করে সম্পত্তি উদ্ধার ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
হাফেজ জালাল আহম্মদ বলেন, তাঁর বাবা ১৯৭০ সালে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাটাখালী এলাকায় মাদ্রাসা ও খানাকাহটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি ধর্মীয় শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক সাধনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ, দরবেশ ও আউলিয়ারা এখানে ওরশ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসতেন।
তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর বাবা ২০০৬ সালের ২৬ নভেম্বর মারা যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় মৃত হোসেন আলীর সন্তান ছৈয়দ আমিন, রশিদ আমিন, নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আমিন ও জুলেখা বেগমসহ কয়েকজন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটির জায়গা-জমি ও সম্পদ দখলে নেন।
হাফেজ জালাল আহম্মদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির জায়গা-জমি ও মার্কেট থেকে অর্জিত অর্থ অভিযুক্তরা নিজেদের মতো করে ব্যবহার করেছেন। প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও নগদ অর্থসহ এক কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি লুটপাট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব সম্পদের আয়-ব্যয়ের বিষয়ে কোনো বৈধ পরিচালনা কমিটি বা সংশ্লিষ্টদের কাছে যথাযথ হিসাবও উপস্থাপন করা হয়নি বলে দাবি তাঁর।
হাফেজ জালাল আহম্মদের ছেলে আনোয়ার কাদের অভিযোগ করেন, খানাকাহের দখলকৃত জায়গায় বর্তমানে মাদকের আখড়া গড়ে উঠেছে। সেখানে গাঁজা সেবনসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। জায়গা উদ্ধার করতে গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আনোয়ার কাদের।
হাফেজ জালাল আহম্মদ আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের কয়েকজন ১৯৭৮ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা কারও বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে অভিযোগ আনতে চাই না। মাদ্রাসা ও খানাকাহের সম্পত্তি, আয়-ব্যয়, দখল এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বক্তব্যও নেওয়া হোক। প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
সাংবাদিক সম্মেলনে মাদ্রাসা ও খানাকাহের সম্পত্তির মালিকানা ও বৈধ কাগজপত্র যাচাই, মার্কেট ও সম্পত্তি থেকে অর্জিত অর্থের আয়-ব্যয়ের হিসাব তদন্ত, সম্পদ বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠান ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ওয়াক্ফ মোতাওয়াল্লি নিয়োগ দিলে প্রতিষ্ঠানের দেখভাল ও পরিচালনার দায়িত্ব তাঁর ওপর বর্তায়। কেউ এ নিয়ম অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’