
নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার
কক্সবাজার শহরের নতুন জেলখানার পশ্চিম পাশে নবনির্মিত মানারুল হুদা মসজিদ ও মাদ্রাসার আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জুমার নামাজের পর স্থানীয় মুসল্লি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, যুব সমাজ ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে মসজিদটির উদ্বোধন করা হয়। এ সময় মসজিদ ও মাদ্রাসার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং এলাকার শিশু-কিশোরদের দ্বীনি শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও নবনির্মিত মসজিদের অন্যতম উদ্যোক্তা শামসুল আলম সওদাগর। তিনি বলেন, “এটি একটি অবহেলিত এলাকা। এখানে দীর্ঘদিন কোনো দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ছিল না। ফলে এলাকার বাসিন্দাদের নামাজ আদায় করতে বেশ সমস্যায় পড়তে হতো। মসজিদটি প্রতিষ্ঠার ফলে এখন স্থানীয় মুসল্লিরা জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি এলাকার ছেলেমেয়েরা দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। মসজিদ ও মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালনায় সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”
অনুষ্ঠানে নবনির্মিত মসজিদের সভাপতি ও প্রধান উদ্যোক্তা সাহাব উদ্দিন বলেন, “আমার প্রতিবেশী ও এলাকার যুবকদের উদ্যোগ এবং সমাজসেবক জোবাইর ভাইয়ের সহযোগিতায় মসজিদটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। মসজিদ নির্মাণের সময় নানা ধরনের বাধা ও ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমনকি আমার নামে একটি মিথ্যা মামলাও করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে সব বাধা পেরিয়ে অবহেলিত এই এলাকায় মানুষের সুবিধার জন্য মসজিদটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের একটি প্রয়োজন পূরণ হয়েছে। পাশাপাশি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ভবিষ্যতে মসজিদ ও মাদ্রাসার কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।”
মসজিদটির নির্মাণকাজে যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন—মো. নোমান, মো. নুরুল আবছার, আরফাত, আনোয়ার, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. সাহেদ, মো. আবু তাহের, মো. ফোরকান, আরিফ, সাইফুল, শাহ আলম, মোহাম্মদ নুর, রুহুল আমিন, মিনহাজ, হাশেমসহ আরও অনেকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি মসজিদ ও দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল। পরে সাহাব উদ্দিনসহ এলাকার যুব সমাজের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সহযোগিতায় মসজিদ ও মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।
তারা বলেন, নবনির্মিত এই মসজিদ ও মাদ্রাসার মাধ্যমে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। এজন্য মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, সহযোগী ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান স্থানীয়রা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মসজিদের উন্নয়ন, মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম এবং ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক পরিচালনায় এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করা হয়।