
হেলাল উদ্দিন, উখিয়া (কক্সবাজার):
কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী জুমের ছড়া এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে একটি পা হারানো যুবদল কর্মী জেলে বদিউল আলমের পাশে দাঁড়িয়েছে পালংখালী ইউনিয়ন যুবদলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। তাঁর পরিবারের জীবিকা নির্বাহের পথ সচল রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগে তাঁকে একটি টমটম গাড়ি উপহার দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বদিউল আলমের হাতে টমটম গাড়িটি তুলে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনায় কর্মক্ষমতা হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়া এই জেলের জন্য গাড়িটি বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে কাজে আসবে বলে আশা করছেন তারা।
টমটম গাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরী, উখিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিদুয়ান সিদ্দিক, পালংখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোছাইন মনু, ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল আলম মেম্বার, উখিয়া উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ ইকবাল মিশু,রোস্তম আলী সৈকত,ফরিদুর আলম শাহিন,শাহাজাহান ভুট্টু,দেলোয়ার হোছাইন টিসু, হাবিবুর রহমান উপেল, ফজল করিম, মনির আলম ভুলু, জামাল উদ্দিন,হুমায়ুন কবির, মোহাম্মদ সেলিম,রোমান কবির সহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ সময় সরওয়ার জাহান চৌধুরী বদিউল আলমের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পালংখালী ইউনিয়ন যুবদলের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও বদিউল আলম ও তাঁর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট নাফ নদীতে মাছ শিকারের সময় সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন জেলে বদিউল আলম। বিস্ফোরণে তাঁর একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের জীবিকা নির্বাহও কঠিন হয়ে পড়ে।
বদিউল আলম পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মাছ শিকার করেই চলত তাঁর সংসার। কিন্তু দুর্ঘটনায় পা হারানোর পর আগের মতো মাছ ধরতে না পারায় পরিবারটি আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। দৈনন্দিন খরচ মেটানোও তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে।
এমন পরিস্থিতিতে বদিউল আলমকে স্বাবলম্বী করে তুলতে এগিয়ে আসেন পালংখালী ইউনিয়ন যুবদলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের সম্মিলিত সহযোগিতায় পাওয়া টমটম গাড়িটি চালিয়ে তিনি নতুন করে আয়-রোজগারের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের এ উদ্যোগকে মানবিক সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, এ সহযোগিতার মাধ্যমে বদিউল আলমের পরিবারে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে এবং তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ পাবেন।