
নিজস্ব প্রতিবেদক, নাইক্ষ্যংছড়ি:
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউপি’র তুমব্রু ১ নং ওয়ার্ডের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া পিতার ছেলে বিভিন্ন অপরাধের জড়িত থাকা একাধিক মামলার আসামির হাতে বাংলাদেশী এনআইডি স্মার্ট কার্ড এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চলছে নানান গুঞ্জন। জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৬ নভেম্বার) রোহিঙ্গা রোহিঙ্গা লিস্টের নাম থাকায় পিতা ভোটার হতে না পারলেও ছেলের হাতে বাংলাদেশী এনআইডি এবং ভোটার হওয়ার অভিযোগে অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সরেজমিন গিয়ে একাধিক স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘুমধুম ইউপির তুমব্রু ক্যাম্প পাড়ায় বসবাসরত রোহিঙ্গা রশিদ আহাম্মদ ভোটার তালিখা থেকে বাদ পড়লেই বহাল আছে তার ছেলে মোঃ ইলিয়াসের এনআইডি কার্ড। আরও জানাযায় স্বাধীনতার পরবর্তি সময়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রশিদ আহাম্মদসহ তার পরিবার এসে নিজে বাংলাদেশের এনআইডি নাপেলেও কৌসলে ছেলে ভাগিয়ে নিয়েছে এনআইডি । কিভাবে এই রোহিঙ্গা রশিদ আহাম্মদের ছেলে ইলিয়াস ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?কারা জড়িত,তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।এই রোহিঙ্গা যুবকের ভোটার বাতিল করার দাবী জোরালো হচ্ছে।
এদিকে এই রোহিঙ্গা পিতার ছেলে ইলিয়াস বাংলাদেশী মেয়ে বিয়ে করে বেশ ডাপটের সাথে দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এবং সীমান্ত এলাকায় ইন্টারনেটের মত অবৈধ সংযোগ দিচ্ছে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে। এই রোহিঙ্গা পিতার ছেলে ইলিয়াস ওপার থেকে আত্মীয়দের যোগসাজসে সীমান্তের মিয়ানমার কেন্দ্রিক সমস্ত অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।এতে রহস্যজনক কারবারে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন বলেও অনেকেই অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ ইলিয়াসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোবাইল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য দেওয়ার সম্ভব হয় নাই।
এ রোহিঙ্গা ভোটার প্রসঙ্গে ঘুমধুম ইউপি’র ১ নং ওয়ার্ড সাবেক সদস্য (পশ্চিমকুল-জলপাইতলী) শফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি সত্যতা স্বিকার করে বলেন, তার পিতার নাম এখনো ভোটার লিস্টে অন্তর্ভুক্ত হতে না পারলেও ছেলে কিভাবে বাংলাদেশী এনআইডি কার্ড হাতে পেলো তা আমার জানা নাই। তবে আমি রোহিঙ্গাদের হাতে বাংলাদেশী এনআইডি বাতিল করতে নির্বাচন কমিশনারের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, আমি চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় এসব অবৈধ ভোটারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছ। চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় অনেকের ভোটার তালিখা থেকে বাদ দেওয়ার সহযোগিতা করেছি। এসব রোহিঙ্গারা ভোটার হয়ে আমাদের ইউনিয়নে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসতি স্থাপন করে আছে। ইউনিয়ন বাসীর পক্ষ হয়ে আমিও চাই এসব রোহিঙ্গাদের হাতে থাকা বাংলাদেশী এনআইডি কার্ড দ্রুত বাতিল করা হউক।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,রোহিঙ্গা ভোটারের বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি । কোন রোহিঙ্গা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ দেওয়া হবে।