#রোহিঙ্গা উৎস থেকে গড়ে ওঠা ছালাম সিন্ডিকেটে ভাঙন, প্রতিশোধে শুরু গণমাধ্যম ব্যবহার — তদন্ত দাবি সচেতন মহলের
নিজস্ব সংবাদ ;-
ইয়াবা সিন্ডিকেটের হিসাবের অমিল নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে উঠেছে। সম্প্রতি সিন্ডিকেটের একাধিক সদস্য তথাকথিত গডফাদার মোহাম্মদ ছালাম-এর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ছালাম মূলত মিয়ানমার থেকে আসা এক রোহিঙ্গা ব্যক্তি। বাংলাদেশে প্রবেশের পর তিনি প্রথমে কুতুবদিয়ায় বসবাস শুরু করেন এবং স্থানীয় এক নারীকে বিয়ে করে ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করেন।
পরবর্তীতে আত্মীয় ও রোহিঙ্গা শীর্ষ ইয়াবা কারবারি নবী হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠেন ছালাম। নবীর সময় ভালো গেলে তিনি কুতুবদিয়া ত্যাগ করে পালংখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বসতি গড়ে তোলেন এবং ইয়াবা ও পণ্য পাচারের কয়েকটি সিন্ডিকেট তৈরি করেন।
একপর্যায়ে ছালামের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়াবা নিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি এনাম র্যাবের হাতে ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক হন। এ ঘটনায় বিজিবিও একসময় ছালামকে আটক করে ইউপি সদস্যের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছালামের নিয়ন্ত্রণে শতাধিক যুবক রয়েছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই অসহায় পরিবারের সন্তান — অর্থের লোভে তারা ইয়াবা বহনকারী লেবার হিসেবে কাজ করে আসছিল। প্রশাসনের নজর পড়লে ছালাম অবস্থান পরিবর্তন করে টেকনাফের বাহারছড়ায় চলে যান, সেখানে দুটি ফিশিং বোটের মাধ্যমে কার্যক্রম চালাতেন এবং রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে ছালামের সাথে ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মোঃ ইউনুস-এর সম্পর্ক নষ্ট হলে সিন্ডিকেটে ভাঙন শুরু হয়। ইউনুস, মিজান, আলম ও আখতার কামাল নামে আরও কয়েকজন ছালামের বিপক্ষে যায়। ছালামের দাবি, “ইউনুসের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী শাপলা পুর গিয়ে আমাকে গুলি করে হত্যা করার পরিকল্পনা নেয়, আমি সেখান থেকে পালিয়ে জীবন রক্ষা করি।”
বর্তমানে জীবন ঝুঁকির কারণে ছালাম পালংখালী এলাকায় আসেন না বলে জানা গেছে। তার দাবি, “ইউনুস সিন্ডিকেট টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে ভুয়া নিউজ ছড়াচ্ছে।”
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে একজন জানিয়েছেন রোহিঙ্গা ছালামের বর্তমান পার্টনার কপিল তার শেল্টার দাতা হিসেবে রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, “এখন এমন সময় এসেছে, যখন এক ইয়াবা কারবারি অন্য কারবারির বিরুদ্ধে নিউজ করাচ্ছে— সমাজের অবস্থা ভয়াবহ।” তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মাদক বিস্তার ঠেকাতে কক্সবাজার জেলা দায়রাজজ আদালতের সিনিয়র অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন,
“অতি দ্রুত পালংখালী ইউনিয়নের বর্ডার সাইট থেকে শুরু করে হোয়াইক্যং পর্যন্ত কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন,
“বর্তমানে বেশিরভাগ মাদক কারবারি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আছে। এজন্যই প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।”
এক সময় যাদের হাত ধরে ইয়াবা সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, আজ তারাই একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইনি পদক্ষেপ ছাড়া এই সিন্ডিকেট ভাঙা কঠিন হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।